SHRILA BAKTI BIBEK BHARATI GOSWAMI MAHARAJ

SRILA BHAKTI SRIRUP SIDDHANTI GOSWAMI MAHARAJ

SRILA SRIMAD BHAKTI SEVAK SANNYASI GOSWAMI MAHARAJ


শ্রী শ্রী গুরু-গৌরাঙ্গী জয়তঃ

শ্রী সারস্বত গৌড়ীয় মঠ

শ্রী শ্রী গুরু -গৌরাঙ্গী জয়তঃ শ্রী সারস্বত গৌড়ীয় মঠ শ্রী শ্রী গৌরপাদপদ্মাশ্রিত সম্প্রদায়কে গৌড়ীয় বলে। গৌড়ীয় নাথই শ্রী শ্রীগৌরসুন্দর, শ্রীগৌর সুন্দরই কৃষ্ণ, কৃষ্ণই সর্ব্ব কারণ -কারণ সচ্চিদা- নন্দ বিগ্রহ অনাদির আদি ও গোবিন্দ। শ্রীমনমহাপ্রভুর উপদিষ্ট সমন্ধ -অভিধেয় -প্রয়োজন তত্ত্বএয়াশ্রয় ভগবৎ বিগ্রহ শ্রীকৃষ্ণই ,(মদন মোহন ) শ্রীগোবিন্দই , (শ্রীগোবিন্দ ) গোপীজন বল্লভই,(গোপীনাথ ) এই তিন ঠাকুরই গৌড়ীয় গনের সেব্য।

অভিন্ন-ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রী গৌরসুন্দর শ্রীমদ্ ভাগবতের শিক্ষক -পারমহংস্য অমল জ্ঞানের শিক্ষক -কর্মফলবাদের অকর্মণ্যতার শিক্ষক -নির্ভেদ ব্রহ্মানুসন্ধানের অনুপযোগিতার শিক্ষক ;তাঁহার অপ্রাকৃত শিক্ষক নিরুপাধিক জীবের কর্মাবরণ ও জ্ঞানাবরণ এর কোনই প্রসক্তি নাই, পরন্তু সুনির্মল শুদ্ধ জীবাত্মার সেবা-বৃত্তির উন্মেষের কথাই আছে। আত্ম প্রতীতি হইতে জাত অভক্তির শ্রেণী সমূহ;-যাহা মনোধর্মী ও ইদ্রিয় ভোগপরায়ণ জনগণ আদর করিতে অভস্ত্য তাহা শ্রী চৈতন্য শিক্ষায় আদ্রিত হয় নাই! পরন্তু ঐ সকল অভিধেয় পরিহারপূর্বক নিত্য ভজনীয় বস্তুস্বরূপ শ্রী কৃষ্ণ এবং সেই শ্রীকৃষ্ণ পঞ্চবিধ আশ্রয় জাতিয়ের একমাত্র রতির বিষয়। তাঁহার শিক্ষায় শ্রীকৃষ্ণের ভজন ব্যাতীত জীবের অপর প্রবৃত্তির আদর নাই। শ্রীকৃষ্ণ নির্বিশিষ্ট বস্তু নহেন;তিনি প্রাকৃত জড় বিশেষের অন্তর্গত ইন্দ্রিয় জ্ঞানগম্য ঐতিহ্যের বস্তু বিশেষ নহেন;অথবা আধ্যাত্মিক কল্পনার ও বস্তু নহেন। ভক্তি ব্যাতীত অন্যপ্রকার সাধন নিত্যশুদ্ধ জীবের চরম কল্যাণোপাদনে অসমর্থ। প্রয়োজন পর্য্যায়ে ফলভোগ ও ফলত্যাগরূপ নির্ভেদ ব্রহ্মানুসন্ধান, অষ্টাদশসিদ্ধি প্রভৃতি জীবের বাঞ্চনীয় ফলপ্রাপ্তি নহে। কৃষ্ণপ্রেমই সুবিমল আত্মার একমাত্র প্রাপ্য। জাগতিক নীতি অথবা জাগতিক বিচার মুলে যাহা ঔদার্য্য়ের আদর্শ বলিয়া নির্মিত হয়,তাহা অচিন্মাত্রবাদ চিন্মাত্রবাদেই পর্য্যবসিত পরন্তু চিদ্বিলাসের কোন সন্ধান দিতে সমর্থ নহে। যাঁহারা আত্মইন্দ্রিয় চেষ্টা দ্বারা সেবা-বিচ্যুত হইয়া পুরুষোওমের সম্বন্ধে ইতর বিচার করিতে গিয়া ভোগী বা ত্যাগী হয়,তাঁহারা শ্রী চৈতন্যদেবের শিক্ষা অনুধাবন করিতে অসমর্থ হইবেন। জীবের আত্ম-স্বরূপ লাভের পূর্ব্ব পর্যান্ত যে বিচার ধারা দৃষ্ট হয় তদ্বারা শ্রী চৈতন্যশিক্ষার অনুগমন সম্ভবপর নহে। তৎজন্য সকল চেষ্টা পরিহার করিয়া সজ্জনগন শ্রীচৈতন্য-চরণ রতি বিশিষ্ট হইলেই ব্রহ্মলোক বিরজা মহেশধাম ও দেবী ধামস্থ চতুর্দ্দশ ভুবন স্ব-স্ববিক্রম প্রকাশ করিয়া তাঁহাদিগকে বিপথ গামী করিতে পারিবে না। শ্রীচৈতন্যশিক্ষায় সর্বতোভাবে শিক্ষিত জনগনের হার্ড রহস্যই সেই শিক্ষালাভের প্রধান অবলম্বন হওয়া উচিত।

ভালরূপে আলোচনা করিলে দেখিতে পাইবেন যে, শ্রীচৈতন্যশিক্ষাই সর্ব্ব শাস্ত্রের সার। ঋক-সাম-যজুঃ ও অর্থব বেদে এবং বেদান্ত শাস্ত্রে যে গভীর তত্ত্ব আবিষ্কৃত হইয়াছে; তাহার সারভাগ এই শিক্ষায় পাওয়া যাইবে। অষ্টাদশ পুরাণ, বিংশতি ধর্মশাস্ত্র রামায়ণ মহাভারত ষড় দর্শন ও তন্ত্র শাস্ত্রে যা কিছু কল্যাণকর সদুপদেশ আছে, সে সমস্তই তাত্ত্বিকরূপে এই শ্রীচৈতন্যশিক্ষাতেই পাওয়া যায়। বিদেশীয় ধর্মশিক্ষায় ও স্বদেশীয় প্রচলিত ধর্মসমূহে যে কিছু সদ্বস্তু আছে,সে সমস্তই শ্রীচৈতন্য শিক্ষায় দেখীতে পাইবেন। স্বদেশীয় ও বিদেশীয় কোন শাস্ত্রে যাহা না পাইবে তাহা এই শিক্ষায় লাভ করিবে।

শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষা--নিতান্ত সরল ও গম্ভীর।

সরল :-যেহেতু মুখ, বোধশূন্য নিরক্ষর মানবের পক্ষে যে ধৰ্ম সহজ তাহা ইহাতে আছে।

গম্ভীর:-যেহেতু তর্কবিচারে ও শাস্ত্রজ্ঞানে পারঙ্গত পন্ডিত দিগের উপকার হয়,এরূপ পরম ধৰ্ম আছে সর্ব্বপ্রকার জীবের উপযোগী-যাহাতে গ্রহস্থ ও ত্যাক্ত গৃহ, বালক বৃদ্ধ যুবা, স্ত্রী-পুরুষ জাতি-বর্ণ ধৰ্ম নির্বিশেষে মানব গণ সকলেই এই ধর্মে অধিকারী। কুন্ঠিত বুদ্ধি,মুর্খ কর্ম আচারিগন ইহাতে আস্বাদন লাভ ক্রিয়া শ্রদ্ধা সহকারে ভাবার্নব পার হইতে পারিবেন। আবার উদার বুদ্ধি তাত্ত্বিক পন্ডিত গন নিরপেক্ষ আলোচনা দ্বারা এই শিক্ষায় নিজ নিজ কুন্ঠিত বিশ্বাস পরিত্যাগপূর্ব্বক উদার-স্বভাব লাভ করিতে পারিবেন। শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষাই জীবের পরম সম্পদ। শ্রদ্ধার সহিত চৈতন্যলীলা শ্রবণ কালে কৃষ্ণ প্রীতির উদয় -

''যেবা নাহি বুঝে কেহ, শুনিতে শুনিতে সেহ,

কি অদ্ভুত চৈতন্যচরিত।

কৃষ্ণে উপজীবে প্রীতি , জানিবে রসের রীতি ,

শুনিলেই বড় হয় হিত।

(চৈতন্যচরিতামৃত মধ্যলীলা ২। ৮৭)

মহাপ্রভুর উপকার সকল দেশে-সকলপত্রে-সকলকালে সর্ব্বশ্রেষ্ট উপকার। এ উপকার কোন দেশ-বিদেশের উপকার,অন্যদেশের অপকার নহে;এ উপকার সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের উপকার সুতরাং সঙ্কীর্ণ, সাম্প্রদায়িক,নশ্বর উপকারের প্রস্তাব মহাপ্রভু ও মহাপ্রভুর ভক্তগণ কখনো করে না। মহাপ্রভুর উপকার কোনদিন কাহার ও 'মন্দ' প্রসব করে না। মহাপ্রভুর দয়া "অমন্দোদয়া-দয়া " তাই মহাপ্রভু মহাবদান্য এবং মহাপ্রভুর ভক্তগণ "মহামহা-বদান্য"। এসকল কথা গল্পের কথা নয়, কাব্য-সাহিত্যের কথা নয় সবচেয়ে বড় সত্যকথা। (শ্রীল প্রভুপাদ )